রাজশাহীর তানোরে বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে মেহেদী হাসান নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার তানোর বাজারের কুঠিপাড়া রোডে অবস্থিত বরেন্দ্র ভবনে এ হামলা সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ভবনের চতুর্থ তলায় মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার ও কন্ট্রোল রুম অবস্থিত। আটক মেহেদী হাসান তানোর উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামের খাজেম আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় ভবনে কেউ না থাকার সুযোগে ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন মেহেদী।
পরে তিনি ভবনের চারতলায় অবস্থিত বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার রুম ও কন্ট্রোল রুমে ঢুকে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন। ভাঙচুরের আগে সার্ভার কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন মেহেদী। এ সময় তার কাছে হাতুড়ি, বড় হাঁসুয়া, প্লাসসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আটক ও অস্বাভাবিক আচরণ
ঘটনাটি টের পেয়ে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে তানোর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং নিজেকে রক্ষার জন্য পাগলের ভান করেন। এ সময় তিনি ছাদ থেকে একটি এসি ফেলে দেন এবং ইট ছুড়ে জনতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে।
পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া
বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের ইলেকট্রিশিয়ান জাকির হোসেন বলেন, সার্ভার রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাসুম বলেন, এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে। কারণ, তিনি সরাসরি সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ভাঙচুর করেছেন এবং আগে থেকেই বিদ্যুৎ–সংযোগ কেটে দিয়েছেন।
বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ ভবনের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে তারা জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন। তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ আরও বলেন, আটক ব্যক্তির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা যায়নি। ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ এখনো এই হামলার পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।



