চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মৃত্যুর সময় ও স্থান

মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) দুপুরে ঢাকার কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের বসার কথা ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে সন্ধ্যার দিকে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

আহত ও নিহতদের তালিকা

সংঘর্ষে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমান, তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজুর ও হাফিজুরকে প্রথমে যশোর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়।

ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুর রহমানের মৃত্যু ঘটে। বিএনপির পক্ষ থেকে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলা ও গ্রেফতার

এই ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানাজার আয়োজন

কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে মফিজুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সংঘর্ষটি চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।