রাজশাহীর মোহনপুরে বিএনপি কার্যালয়ে র‌্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, মাদকবিরোধী প্রচারণায় উত্তেজনা
মোহনপুরে বিএনপি কার্যালয়ে র‌্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ

রাজশাহীর মোহনপুরে বিএনপি কার্যালয়ে র‌্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ

রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় একটি উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই র‌্যাব সদস্যকে তাদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি মাদকবিরোধী প্রচারণা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাবের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনার কারণ

স্থানীয় সূত্র, বিএনপি নেতাকর্মী এবং র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাদকবিরোধী নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের আয়েজ বাজার এলাকায় গত মঙ্গলবার বিএনপি নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসা বন্ধে সক্রিয় প্রচারণা চালান। এই প্রচারণায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয় দুই মাদক কারবারি আজিজুল ও খইবুর।

পরের দিন বুধবার বিকালে আজিজুল র‌্যাব-৫-এর সদস্য আলামিন ও হারুনকে ফোন করে ডেকে আনেন। র‌্যাব সদস্যরা এলাকায় এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আজিজুল আমাদের সোর্স, তাকে কেউ কিছু বললে ভালো হবে না।’ এই মন্তব্যে উত্তেজিত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দুই র‌্যাব সদস্যকে আটক করে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. মঈনুদ্দীন, এসআই মোদাচ্ছের খান ও এসআই ইয়ামিন আলীসহ পুলিশের একটি দল এবং র‌্যাব-৫-এর কর্মকর্তাসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। র‌্যাব সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. মঈনুদ্দীন বলেন, ‘সন্ধ্যায় র‌্যাব সদস্যদের উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অভিযোগ ওঠা মাদক ব্যবসায়ী আজিজুলকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।’

র‌্যাবের প্রতিক্রিয়া ও মাদকবিরোধী অভিযান

র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান আছে। র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এই ঘটনার পটভূমিতে গত ২৯ জানুয়ারি রাতে আয়েজ বাজার সংলগ্ন ধোপাঘাটা এলাকায় মাদকদ্রব্য সেবনে অসুস্থ হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়। এর আগে একই এলাকায় আরও চার জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা মাদক সমস্যার তীব্রতা নির্দেশ করে।

এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা, মাদকবিরোধী প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাবের সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়ানো যায়।