চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতা হত্যা, সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনা
রাউজানে বিএনপি নেতা হত্যা, সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতা হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে মো. মুজিব (৫৬) নামের এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইফতারের পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইফতারের পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মুজিব বাজারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৩-৪ জন অস্ত্রধারী যুবক মফিজের দোকানের সামনে রাস্তায় তাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে ৮-১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মুজিব পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম আধারমানিক এলাকার মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং এলাকায় তার রাজনৈতিক প্রভাব ছিলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, "নারী-সংক্রান্ত একটি সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ঘটনার সব দিক তদন্ত করছি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবো।"

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।"

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা তাদের এলাকায় বিরল এবং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু ক্লু সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজর দিতে বাধ্য করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা এখন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।