ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাকির হোসেন ফরাজীকে (৪২) আটকের প্রতিবাদে বুধবার জেলার প্রধান সড়কের বাংলাবাজার চৌরাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীসহ স্থানীয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।
অবরোধের প্রভাব ও পুলিশ মোতায়েন
অবরোধের কারণে জেলার সাত উপজেলায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগের দিন বিকালেও থানার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান জাকির সমর্থিতরা।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
জাকিরের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তি দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা। দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহ মো. মনির জানান, জাকিরকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র পুরাতন অস্ত্র ও গাঁজা রেখেছে। জাকির মাদকের ব্যবসা করেন না এবং অস্ত্র নিয়ে চলাচলও করেন না। তিনি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
আটকের ঘটনা
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চ থেকে একটি পুরাতন কাঠের বাটের একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি ও দুই কেজি গাঁজা (আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা) সহ জাকিরকে আটক করে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৩টায় ইলিশা ঘাট থেকে লঞ্চে অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ডের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকির মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি এলাকায় গত দুই দিন টক অব দ্য জেলা। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ঢাকায় অবস্থান ও ব্যবসায় যুক্ত থাকা জাকিরের সঙ্গে অস্ত্র ও মাদক সমর্থিত নয় বলে দাবি স্থানীয়দের। জাকির সমর্থিতরা এটিকে সাজানো ঘটনা বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ গ্রুপ অস্ত্র ও মাদক রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিয়েছে এবং জাকির বিরোধীরা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেছে।
জাকিরের পটভূমি
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছর জাকির ঢাকায় অবস্থান করে টাইলস সিরামিকের ব্যবসা করছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।



