কুড়িগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, নেতাকর্মীদের চরিত্রহনন ও সাম্প্রতিক মতবিরোধের জেরে হামলা-পালটা হামলার প্রেক্ষাপটে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) রাতে জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সহমর্মিতা, সহাবস্থান ও শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা
বৈঠকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন, সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জহুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির শামসুল হুদা মিঠু ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শহর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম।
অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নাম ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের জেরে জেলার কয়েকটি উপজেলায় উত্তেজনা ও মতবিরোধের ঘটনা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। নেতারা বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে সমন্বয় ও সহযোগিতা ছিল, তা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে। তারা আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব অপচেষ্টা রুখতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্ত
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা সংঘাত এড়াতে দুই দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচার বজায় রেখে আমরা জেলার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ধরে রাখতে চাই। যে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হোক না কেন আমরা দ্রুততম সময়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করবো।



