কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সদরের শান্তিনগর এলাকায় প্রথম দফা এবং বিকেলে হাসপাতাল পাড়ায় দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, কর্মী রাকিব ও আপন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা কমিটির সভাপতি সুজন মিয়া, কর্মী মাহিন ও শরিফুল ইসলাম। তাদের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে ফেসবুকে পোস্ট ও পাল্টা পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের কর্মীরা জড়ো হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ছাত্রদলের অভিযোগ
ছাত্রদলের অভিযোগ, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতারা ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেন। এ বিষয়ে জানতে গেলে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা হামলা চালান এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোক জড়ো করে আবারও হামলা করেন।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সকালে শান্তিনগর এলাকায় উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে শিবির নেতা সুজন মিয়া ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান এবং আরেক শিক্ষার্থী আহত হন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



