নাটোরে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, সড়ক অবরোধ
নাটোরে যুবদলের সংঘর্ষে আহত ১০, সড়ক অবরোধ

নাটোরের লালপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায় যুবদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লালপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী গোধড়া ব্রিজ ও গুনাইহাটি এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের বিবরণ

সংঘর্ষের সময় একটি দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে উত্তেজিত লোকজন গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

আহত ব্যক্তিরা

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বড়াইগ্রামের গুনাইহাটি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও ওয়ার্ড যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, একই গ্রামের মুদি দোকানদার লিটন হোসেন এবং লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারী প্রমুখ। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারী ও সদস্য নাদিম হোসেন দোহা উভয়েই কদিমচিলান আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গোধড়া বাজারে পল্লী চিকিৎসক রাশেদের দোকানে হাসান আলীসহ অন্যান্য কর্মীরা উঠাবসা করত। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মজনু পাটোয়ারী তাদের সেখানে বসতে দিতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে রাশেদ ও মজনুর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মজনুর কর্মীরা রাশেদের দোকানে ভাঙচুর চালায় ও তাকে পিটিয়ে আহত করে।

পরবর্তী ঘটনা

এই খবর রাশেদের বাড়ি বড়াইগ্রামের গুনাইহাটিতে ছড়িয়ে পড়লে, তার স্বজনসহ অনুসারীদের সঙ্গে লালপুরের গোধড়া গ্রামের লোকেরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন নাটোর-পাবনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় গুনাইহাটি মোড়ে মজনু পাটোয়ারীর সমর্থকদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের ব্যবস্থা

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন; তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে; তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।