জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিলেটে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান।
বিএনপির তীব্র সমালোচনা
জামায়াত আমিরের মন্তব্যকে 'অসংলগ্ন' ও 'কুরুচিপূর্ণ' বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষের পর মাওলানা হাবিবুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় তার শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। সিলেটি ভাষার একটি শব্দচয়ন সঠিক ছিল না উল্লেখ করে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতাদের যৌথ বিবৃতি
জামায়াত আমিরের দুঃখ প্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তার বক্তব্যের ভাষা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এ প্রতিক্রিয়া জানান।
জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলমের পাঠানো বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সিলেটের একজন প্রবীণ নেতার কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন ও অনভিপ্রেত বক্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। তার এই অশালীন মন্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
সিলেটের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বরাবরই সৌজন্য, শালীনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সিলেট-১ আসনের পরাজিত প্রবীণ রাজনীতিবিদের বক্তব্যের কুরুচিপূর্ণ ভাষা সিলেটের চিরচেনা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।
নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধুমাত্র 'শব্দচয়ন ভুল হয়েছে' বলে দুঃখ প্রকাশ করলেই এ ধরনের বক্তব্যের দায় এড়ানো যায় না। নির্বাচনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে তার সব আক্রোশ এখন জনগণের ওপর গিয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
গণতন্ত্রে জনগণই বিচারক
গণতন্ত্রে জনগণই চূড়ান্ত বিচারক উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক ও জেলা-মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, জনবিচ্ছিন্ন ও অশালীন বক্তব্য কখনই মানুষের সমর্থন পায় না। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সবপক্ষকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান নেতারা।



