নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে মারধর, যুবদলের চারজন বহিষ্কার
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে মারধর, যুবদল থেকে চার বহিষ্কার

বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভুঁইয়াকে মারধর করে যুবদলের এক নেতার অনুসারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

নারায়ণগঞ্জ শহরের চানমারী এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে ছবি তুলতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার (৭০) ওপর হামলা ও মারধর করেছেন যুবদল সমর্থক নেতা–কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া সিদ্ধিরগঞ্জ ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিও।

বহিষ্কার

এ ঘটনায় জড়িত যুবদলের চারজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ–পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. সুমন, মো. কাউসার, শ্রী নিতাই ও মো. দেলোয়ার হোসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জিয়াউর রহমানের দুর্লভ ছবির প্রদর্শনী ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া ও জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমানের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমানের সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে মারমুখী হলে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণেই অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমানের সাত-আটজন সমর্থক হামলা চালান এবং তাঁকে কিল–ঘুষি মারতে থাকেন। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এগিয়ে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ছাড়িয়ে নেন।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। সামনে দাঁড়ানো নিয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর। ওই সময় সিনিয়র নেতাদের সামনে মাফও চেয়েছিল সে। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় মশিউরের উপস্থিতিতে তাঁর পোলাপান অতর্কিত আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।’

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন নেতারা। আমিও তাঁর (অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া) কাছে সরি বলেছি, তিনিও বলেছেন, ওনার ভুল হয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, ওনার সঙ্গে কে বা কারা খারাপ আচরণ করেছে। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবদলের চারজনকে তাৎক্ষণিক ভিডিও দেখে সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, বিষয়টি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।