গজারিয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩, ভাঙচুর ৮ বসতবাড়ি
গজারিয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয় এবং ৭ থেকে ৮টি বসত বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

সংঘর্ষের বিবরণ

সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের চর বলাকী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। আহতদের মধ্যে সুমন ও জিকুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক হোসেন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব একে সুমন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবদলের সদস্য আনোয়ার প্রধানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সোমবার দুপুরে সুমনের বাড়ির সামনে সড়কের ওপর দুই নেতার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একটি ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের টিনের বেড়া, প্লাস্টিকের চেয়ার এবং এর আশেপাশে থাকা ৭-৮টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।

উভয় পক্ষের দাবি

হোসেন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব একে সুমন দাবি করেন, আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়ি ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবদলের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্থানীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম ও একে সুমনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমাদের পার্টি অফিস, আমার নিজ বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের পক্ষের সুমন ও জিকু গুরুতর আহত হয়ে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন।

পুলিশি ব্যবস্থা

মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২৪ সেপ্টেম্বর একই গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহত হন এবং বহু বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।