জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং অসাংগঠনিক আচরণের দায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৩১ মে) জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নাচানাচির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
বহিষ্কৃত নেতাদের পরিচয়
বহিষ্কৃতরা হলেন- আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুব আলম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মেম্বার। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী। দেশব্যাপী যখন এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালন করা হচ্ছিল, তখন সোনামুখী ইউনিয়নের এই দুই শীর্ষ নেতা দলের কোনো কর্মসূচি পালন করেননি।
অভিযোগের বিবরণ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শোকের এই দিনে দলীয় কর্মসূচি বর্জন করে তারা উল্টো জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) নাম ব্যবহার করে অশ্লীল নাচ-গানসহ আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলজার হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রধানের নির্দেশক্রমে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শোকাবহ দিনে এ ধরনের অসাংগঠনিক ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ৩০ মের ওই নিন্দনীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের দুজনকে সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।’ এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের বক্তব্য
এদিকে অশ্লীল নাচ-গানের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন রিসিভ করেন নি মো. মাহবুব আলম মিঠু ও মাহবুব আলম মেম্বার। এতে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
জেলা বিএনপির সতর্কবার্তা
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, আগামীতেও সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে এমন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।



