নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ওসমান গণি হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ
নিহত ওসমান গণি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বৈশাখী রোববার (২৪ মে) আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্তরা। স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় ওসমান গণির সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন
গত ২০ মে সন্ধ্যায় দুপ্তারা ইউনিয়নের কাউন্দাচক কবরস্থানসংলগ্ন একটি পুকুরে ভাড়া দেওয়া ভেকু মেশিন বিকল হলে সেটি মেরামতে যান ওসমান গণি। রাত একটার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন আহত হন।
উত্তেজনা ও গ্রেফতার
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও সমর্থকেরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন। তিনি জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পরিকল্পনা ও নির্দেশে এবং দ্বিতীয় আসামি নাঈম হাসানের ছত্রছায়ায় ওসমান গণিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।



