ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয় বলে জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল। শুক্রবার (২২ মে) জুমার পর জেলা কালেক্টরেট মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় অবস্থান করেন।
ছাত্রদলের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল জানান, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়। তিনি বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।'
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে ঝিনাইদহ যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুমার নামাজের আগে ঝিনাইদহ শহরে পৌঁছান তিনি। জেলা কালেক্টরেট মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে যান। কথা বলার একপর্যায়ে পেছন থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ মিছিল করে।
ছাত্রদল নেতার বক্তব্য
এ ব্যাপারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
নাসীরুদ্দীনের অভিযোগ
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের লোকজন হামলা চালিয়েছে। তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ৩ থেকে ৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার বিচার চাইবো। আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইনশৃঙ্খলার এরকম অবস্থা হয়, তার মন্ত্রী থাকার দরকার নেই।
পুলিশের বক্তব্য
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।



