প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় বিএনপির মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি
রিজভী জানান, মতবিনিময় সভায় বিএনপি এবং তার তিনটি অঙ্গসংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ দুই নেতা অংশ নেবেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া দলের মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা সভায় অংশ নেবেন।
সারাদেশের জেলা পর্যায়ের নেতারা সাংগঠনিক ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই-তিন মাসে গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়নাধীন বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব
রিজভী বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। কত জীবন চলে গেছে—শিশু, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকের। গণতন্ত্র মানেই সরকার তার কাজ করবে আর বিরোধীদল তার সমালোচনা করবে। এটাই মূল এবং এটাই হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “বিরোধীদল বিভিন্ন সমালোচনা করতেই পারে। তবে সমালোচনাটা যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল থাকলে সেই ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, রাষ্ট্র আরও কার্যকর ও কর্মক্ষম হয়।”
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা
রিজভী সতর্ক করে বলেন, “যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেয় এবং মিথ্যা কথা বলে যায়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরেও অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন। যদি সেই ধরনের রাজনীতি হয়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্রের মধ্যেই পড়ে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিরোধীদল গঠনমূলক থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। জনগণ যদি মনে করে বিরোধীদলের কথা ইতিবাচক, তাহলে জনগণই সেটার মূল্যায়ন করবে। জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত বিচারক। সামনের নির্বাচনে জনগণই বিবেচনা করবে সরকার সঠিক কাজ করেছে কিনা।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



