জামায়াত নেতার অভিযোগ: ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে
জামায়াত নেতার অভিযোগ: সরকার জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে

জামায়াত নেতার অভিযোগ: ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজ বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে খেলাফত মজলিস।

সহিংসতা প্ররোচনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার

মিয়া গোলাম পরওয়ার জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে না দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ অনুচ্ছেদে মানুষের যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বাস্তবে তা উপভোগ করতে পারছে না জনগণ।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখনই বিরোধী দলের মিটিংয়ে বাধা দিচ্ছেন, অফিস ভাঙচুর করছেন, গতকাল চট্টগ্রামের ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন। আপনারা রগ কাটা বলেন শিবিরকে, অথচ পত্রিকায় এসেছে আপনারা শিবির নেতার রগ কেটে দিয়েছেন। এখন ব্যর্থতা ঢাকার জন্য দয়া করে দেশের মানুষকে সহিংসতার দিকে ঢেলে দেবেন না।’

চট্টগ্রামের সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের ঘটনা উদ্বেগজনক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি হতে পারে

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐকমত্য

সংস্কার প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ সময় আলোচনা করে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল সাংবিধানিক সংস্কার। কিন্তু এখন সেই ঐকমত্যের ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গ

গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই সময়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গণভোট আগে হলে সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্টভাবে এগোতে পারত এবং জনগণের রায় আইনি ভিত্তি পেত

নোট অব ডিসেন্ট ও বিভ্রান্তি

নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নোট অব ডিসেন্ট মানে ভিন্নমত বা আপত্তি নথিভুক্ত করা—এটি কোনোভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত অস্বীকার করার সুযোগ দেয় না। তাঁর ভাষ্য, ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেখানে একটি বা দুটি দলের ভিন্নমত থাকলেও তা শুধু রেকর্ড হিসেবে থাকবে; কিন্তু সামগ্রিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্টের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং প্রকৃত অবস্থান গোপন করছে।

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

গোলটেবিল বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও জনবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। সরকারের সামনে এখন বিরোধী দলকে সামাল দেওয়া, সংস্কার কার্যকর করা এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও যুক্ত হয়েছে।

সংসদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অলি আহমদ বলেন, অনেক সদস্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এ ছাড়া সরকারকে ঘিরে একটি অদক্ষ বলয় তৈরি হয়েছে, যারা সঠিক পরামর্শ দিতে পারছে না। সরকারকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ। এতে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা শাফায়েত হোসেনসহ অন্য নেতারা।