২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেছেন বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও দাবি
জামিল সিদ্দিকী বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা অভ্যুত্থানে সরাসরি সম্পৃক্ত হন এবং উত্তাল সেই সময়ে বিপদগ্রস্ত অনেক আন্দোলনকারী বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পয়েন্টে আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার অনেক ছাত্র আহত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
জামিল সিদ্দিকী বলেন, ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম’ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শহীদদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে অন্তত ৭৯ জন মাদ্রাসার ছাত্রের নাম এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জুলাই অভ্যুত্থানে কওমি ছাত্রদের এসব অবদানের কথা তুলে ধরে এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি করেন বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি।
সরকারের প্রতি আহ্বান
তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলন থেকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাব যে, এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কওমি ছাত্রদেরকেও গুরুত্ব দেয়া হোক এবং তাদের যে ভূমিকা ছিল, সেটার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হোক। আর প্রত্যেকটা জায়গায় তাদেরকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হোক।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।



