সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ককটেল হামলার বিবরণ
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৬ জুলাই (সোমবার) রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি এই ঘটনাকে কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত বলে নিন্দা জানান।
আহতদের অবস্থা
এই হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। চারজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের ব্যর্থতা ও যোগসাজশের অভিযোগ
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশের শুরুতে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর বিষয়টি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সমাবেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয়, এ ঘটনার সঙ্গে প্রশাসন জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশবাসী মনে করে, প্রশাসনের যোগসাজশেই সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটাতে দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শর্তই হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। রাজনীতিতে সহিংসতা, বোমাবাজি ও খুনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখা উচিত, অতীতে যারা ককটেল ও বোমাবাজির রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের পরিণতি শুভ হয়নি।
সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি
প্রশাসনের উদ্দেশে জোর দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে, এই হামলার ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রহস্য এবং এই হামলার নেপথ্যের কুশীলবদের অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। প্রশাসনের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি।



