গণভোটের পেছনে নোট অব ডিসেন্টের ভূমিকা: এনসিপি নেতার ব্যাখ্যা
জাতীয় পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকার কারণেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি গণভোটের পটভূমি ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
নোট অব ডিসেন্ট কেন গণভোটের কারণ?
সারোয়ার তুষার উল্লেখ করেন, যেসব মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, "এজন্যই মূলত গণভোটটা এসেছে, যাতে জনগণ আসলে ওই ইস্যুতে কী চায়, তাদের মতামত কী তা যাচাই করা যায়।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, নোট অব ডিসেন্টের অর্থ হলো দ্বিমত সহকারে একমত হওয়া, যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি পদ্ধতি।
তিনি আরও যোগ করেন, "তা নাহলে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো শুধুমাত্র নোট অব ডিসেন্ট সহ স্বাক্ষর করে দিয়ে বলতে পারতাম যে, এবার যারা ক্ষমতায় আসবে তারা তাদের দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।" কিন্তু এই পদ্ধতিতে ঝামেলা এড়াতে এবং স্পষ্টতা আনতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
জনগণের মতামতের প্রাধান্য ও বিএনপির বোধগম্যতা
এনসিপি নেতা বলেন, যখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়ে দলগুলো একমত হতে পারেনি, তখন এক পর্যায়ে সবাই সম্মত হন যে জনগণের কাছে যাওয়া উচিত এবং তাদের মতামত জানা উচিত। এই চিন্তাধারা থেকেই গণভোটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি বলেন, "এখন যেহেতু জনগণ সেই বিষয়গুলোতে মতামত দিয়ে ফেলেছে এবং হ্যাঁ ভোট পাশ করেছে, তাই গণভোটের ওই বিষয়ে আর দলীয় ইশতেহার বা নোট অব ডিসেন্ট প্রাধান্য পাবে না, এটাই স্বাভাবিক।"
সারোয়ার তুষার বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই কমন সেন্স বিএনপির মত দল বুঝবে না, বা বুঝতে চাইবে না এটা আমি বিশ্বাস করি না।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিএনপি বিষয়টির ধারণাগত দিকটি বুঝতে সক্ষম হবে এবং গণভোটের ফলাফলকে মেনে নেবে।
তথ্যসূত্র হিসেবে যুগান্তর পত্রিকার প্রতিবেদন উল্লেখ করেন সারোয়ার তুষার, যা এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।



