বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের মৌলিক পার্থক্য নিয়ে মারুফ কামালের বিশ্লেষণ
সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ কামাল খান বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আদর্শগত ও দর্শনগত মৌলিক পার্থক্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই রাজনৈতিক দর্শনের সুস্পষ্ট ফারাকগুলো তুলে ধরেন।
জাতীয় কুচকাওয়াজের দিন নির্ধারণে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
মারুফ কামাল তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে জাতীয় কুচকাওয়াজ ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বা তাদের রাজনৈতিক ভাবনার অনুসারীরা ক্ষমতায় এলে এই জাতীয় কুচকাওয়াজ রদ বা রহিত হয়ে যায়। তিনি আরও যোগ করেন যে কখনো কখনো ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের 'ভিজয় দিওয়াস' অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে যুগপৎভাবে বাংলাদেশে জাতীয় কুচকাওয়াজ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো জাতীয় দিবস ছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে 'জাতীয় দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এই দিনে জাতীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মারুফ কামালের মতে, এই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্য সুরক্ষার রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়।
পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিতে ভিন্নতা
রাজনৈতিক দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মারুফ কামাল পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্থপতি আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত উক্তি 'With malice toward none, with charity for all'-এর অনুকরণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সারকথা হিসেবে 'সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়' এই বাক্যটি নির্ণয় করেন। এই নীতির ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে 'Friendship with all, malice towards none'।
অপরদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই নীতির সঙ্গে 'সার্বভৌম সমতা' শব্দবন্ধটি যুক্ত করেন। তার নির্দেশনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্যাস দাঁড়ায়: 'সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়'। ইংরেজিতে যার অর্থ 'Friendship with all based on sovereign equality, malice toward none'।
মারুফ কামাল এই পার্থক্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে এর অর্থ হলো অর্থে, বিত্তে, বাহুবলে, আকৃতিতে, লোকসংখ্যায় বা অন্য যে-কোনও দিক দিয়ে কোনও রাষ্ট্র ছোটবড়, বলশালী-দুর্বল, বিশাল-ক্ষুদ্র, ঋদ্ধ-দরিদ্র যাই হোক না কেন, বিশ্বসভায় প্রতিটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে।
দর্শনগত পার্থক্যের গুরুত্ব
পোস্টের শেষাংশে মারুফ কামাল খান জোর দিয়ে বলেন যে নৈতিক, আদর্শিক ও দর্শনগত এই পার্থক্যগুলো আমাদের জানা, মনে রাখা এবং প্রয়োগ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তার মতে, রাজনৈতিক দর্শনের এই মৌলিক ভিন্নতাগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও নীতিনির্ধারণে গভীর প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সিনিয়র এই সাংবাদিকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শন কেবল ক্ষমতায় আসার পদ্ধতিতে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতেও সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন। জাতীয় দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি নির্ধারণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এই দুই দলের দর্শনগত অবস্থান স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বহন করে।



