ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জার বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব
ফখরুলের মেয়ে শামারুহ মির্জার জবাব

ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জার বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা সাম্প্রতিক সময়ে তার দাদা ও বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে শামারুহ মির্জার বক্তব্য

শামারুহ মির্জা তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, কিছুদিন পরপরই কিছু নিম্নরুচি ও নিম্নমেধার মানুষ তার দাদা ও বাবাকে নিয়ে অযথা উত্তেজনায় ভোগে। তিনি বলেন, "এই স্ট্যাটাসের পর আবারও ভুগবে, জানি"। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিষয়টি বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোর সময় বেশি চোখে পড়ে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার বাবা সবসময় পপুলিজমের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে ১৯৭১ এর গল্প, বাঙালির শুধু বাংলাদেশি হয়ে ওঠার কথা, একটি পতাকার নিচে বলেছেন।

পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা

শামারুহ মির্জা তার পোস্টে পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, ঠাকুরগাঁও পুলিশ স্টেশনে মির্জা আলমগীর প্রথম পাকিস্তানের পতাকা নামান। সম্ভবত বজলার চাচা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তার দাদা মির্জা রুহুল আমিন তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে ইসলামপুরে চলে যান। সেখানে একটি ছোট বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ডিসেম্বরের পর তিনি ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জীবনে কোনো নির্বাচনেই তিনি হারেননি, হোক তা পৌরসভা, বা সংসদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অনুপ্রেরণা

শামারুহ মির্জা তার দাদার সাথে ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, তার এইচএসসি রেজাল্টের সময় দাদা সিএমএইচে ছিলেন, তখন তার ক্যানসার ছিল। তার ফলাফলে দাদার যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছিল, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, "অসুস্থ শরীর নিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি তার কণ্ঠে এনে ফোনে বলেছিলেন, দাদা, তুমি আমাদের পরিবারের তারা"। তিনি আরও যোগ করেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ যা কিছু অর্জন, সবই তাদের মেধা, পরিশ্রম ও সততার ফল।

জীবনের মূল্যবান বার্তা

শামারুহ মির্জা তার পোস্টের শেষে একটি আধ্যাত্মিক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে মানুষকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তার মধ্যে একটি হলো, তুমি যে জ্ঞান অর্জন করেছিলে, তা দিয়ে কী কাজ করেছ? তিনি বলেন, "আমরা যেন এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে গিয়ে আটকে না যাই—সেই চেষ্টাই করি। জ্ঞান অর্জন করুন এবং সেটা ভালো কাজে লাগান"

এই পোস্টের মাধ্যমে শামারুহ মির্জা তার পরিবারের প্রতি সমালোচনার জবাব দিয়ে তাদের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্য তুলে ধরে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।