সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষে ফুল দিতে গিয়ে তিনজন আটক
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দেওয়ার সময় দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা ও ২টার দিকে এই আটক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা আক্তার (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মিষ্টি সুভাষ (২৮) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রকিবুল ইসলাম ওরফে দুর্জয় (৩২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্মৃতিসৌধের ফোয়ারার সামনে থেকে তাহমিনা আক্তারকে আটক করা হয়, যার সঙ্গে শিশুসহ তিন সন্তানও উপস্থিত ছিলেন।
আটকের সময়ের ঘটনা
বেলা দুইটার দিকে স্মৃতিসৌধের বেদির সামনে থেকে রকিবুল ইসলাম এবং ফোয়ারার সামনে থেকে মিষ্টি সুভাষকে আটক করা হয়। তাহমিনা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তিনি আগে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চাকরি করতেন এবং বর্তমানে তৃণমূল কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তিনি বলেন, তিনি সকালে বাসে তিন সন্তান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য
মিষ্টি সুভাষ আটক হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসছি। ব্যানারটা জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশের জন্য কিছু করে নাই? আমরা তিনজন আসছি। এটা তো বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।’ রকিবুল ইসলামও আটক হওয়ার সময় বলেন, ‘আমরা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। আমরা নেত্রীকে ভালোবাসি ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কারণেই আজ এখানে আসছি। আমি বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শের সৈনিক।’
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এ–৪ সাইজের কাগজে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ‘সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা’ লিখে স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে ফুল দেওয়ার সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে আশুলিয়া থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



