যশোরে হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো, পুলিশ জব্দ করেছে
যশোরে হ্যান্ডমাইকে ৭ মার্চের ভাষণ, পুলিশ জব্দ

যশোরে হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো, পুলিশ জব্দ করেছে মাইক

যশোর শহরের জনবহুল চারখাম্বা এলাকায় একটি হ্যান্ডমাইকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উৎসুকতা তৈরি করে এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মাইকটি জব্দ করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চারখাম্বা মোড়ের নিকটবর্তী প্রবীণ শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরির বাড়ির প্রাচীরের উপরে একটি সাদা ও নীল রঙের হ্যান্ডমাইক রাখা হয়েছিল। হঠাৎ করে মাইকটি থেকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে শুরু করে, যা আশেপাশের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়, এবং পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইকটি জব্দ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় নিয়ে যায়।

যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, "স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে চারখাম্বা মোড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজছে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে মাইকটি সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে এসেছে। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

স্থানীয় চা দোকানদার রমজান বলেন, "হঠাৎ করে দেয়ালের উপরে রাখা মাইক থেকে ভাষণ বাজতে শুরু করে। প্রথমে বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজছে। মাইকের পাশে দুটি বড় ফুলগাছের ডাল ঝুলে থাকায় কারা মাইকটি রেখেছে, তা দেখা যায়নি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত চারখাম্বা মোড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ভাস্কর্য ছিল, যার কারণে মোড়টির নাম শেখ রাসেল চত্বর ছিল। তবে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ভাস্কর্যটি ভেঙে দেয়। শনিবার রাতের এই ঘটনায় স্থানীয়রা আবারও ঐতিহাসিক স্মৃতির কথা স্মরণ করে।

পুলিশ এখনও এই ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শনাক্ত করতে পারেনি। তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই ঘটনা যশোর শহরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।