নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানো ও উধাও হওয়ার রহস্য
নেত্রকোনায় আ.লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানো ও উধাও

নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানো ও উধাও হওয়ার ঘটনা

নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একটি ব্যানার টাঙানো ও পরে তা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কার্যালয়ের তৃতীয় তলায়, যেখানে ছাত্রলীগের অফিস অবস্থিত, সেখানে এই ব্যানারটি টাঙানো হয়।

ব্যানারের বিবরণ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ব্যানারটিতে ‘দলীয় কার্যালয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নেত্রকোনা জেলা শাখা, শহীদ তিতাস রোড ছোটবাজার নেত্রকোনা’ লেখা ছিল। বামপাশে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবিও দেখা গেছে। স্থানীয়রা সকাল ৮টা থেকে ১০টার দিকে ব্যানারটি দেখতে পেলেও, বেলা পৌনে ১১টার পর তা আর কারও চোখে পড়েনি।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ‘সকাল ৮টার দিকে আমি তৃতীয় তলায় ছাত্রলীগের ব্যানার ঝুলতে দেখি। ১০টার দিকেও এটি ছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেটি অদৃশ্য হয়ে যায়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও

ব্যানার টাঙানোর একটি ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে। তবে তারা সেখানে ব্যানারটি না পেয়ে খোঁজখবর শুরু করে। পথচারী ও উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমালেও, ব্যানারটি এর আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার বলেন, ‘বিষয়টি শুনে পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যায়, কিন্তু ব্যানার আর পাওয়া যায়নি। আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কার্যালয়ের পটভূমি ও অতীত ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিনতলা বিশিষ্ট দলীয় কার্যালয়টি আগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যবহার করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে কার্যালয়টির আসবাবপত্র লুটপাটের পর বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়, যা একটি বড় ঘটনা হিসেবে পরিচিত। নতুন করে ব্যানার টাঙানো এই প্রেক্ষাপটে আরও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যদিও পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। ব্যানারটি কে টাঙালো এবং কেন সরিয়ে ফেলা হলো, তা এখনও একটি রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে।