সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেফতার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেফতার: হামলা ও অগ্নিসংযোগ

সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেফতার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

সাভারের আশুলিয়া থানায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বসতবাড়িতে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে আশুলিয়া থানার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামির পরিচয়

গ্রেফতারকৃত আতিকুর রহমান (৩৭) ধামসোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরচট শের আলী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাসমত আলীর ছেলে। তিনি ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং নিষিদ্ধ সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

মামলার বিবরণ

মামলার বাদী মো. ফজলুল হক। তিনি আতিকুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণের পর থেকে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ রয়েছে, তার জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আতিকুর রহমান ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন পরিবারের লোকজনদের। এতে বাদীর স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্রবধূ আহত হন।

হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে স্থাপিত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের সামনে থাকা চারটি বৈদ্যুতিক মিটার এবং একটি সাবমার্সিবল মোটর ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবারও তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে বাড়ির এসির আউটডোর ইউনিটে আগুন জ্বলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে আতিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পায় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এলাকায় প্রবেশের পর তার বিরুদ্ধে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। জুলাই আন্দোলনে হামলা, নির্যাতন ও ছাত্র হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, "অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"