হামে শিশুমৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সেই সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়করণ এবং হামের চিকিৎসার জন্য জরুরি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের দাবিও জানানো হয়। রবিবার (১০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, ঢাকা মহানগর সংসদের আহ্বায়ক আসিফ জামান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি কে এম আব্দুল্লাহ নিশাত প্রমুখ।
সমাপনী বক্তব্যে তামজিদ হায়দার চঞ্চল
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, “স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে এবং চিকিৎসা-ব্যবসা বাংলাদেশে নির্মূল করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে ডাকসু নেতৃবৃন্দের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি আরও বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করা চলবে না এবং কোনও বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসায়িক স্বার্থে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।” সমাবেশে থেকে শিক্ষা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য-বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
মেঘমল্লার বসুর বক্তব্য
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, “বর্তমান সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অদ্ভুত এক মিল দেখা যাচ্ছে। সংসদের অধিবেশনে পর্যন্ত শিশু মৃত্যু নিয়ে যথাযথ উদ্যোগী আলাপ দেখলাম না। ইউনিসেফ দুই মাস আগে থেকে ইউনূস সরকারকে হামের সংকট এবং শিশুমৃত্যু বিষয়ে সতর্ক করলেও ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এত শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ইউনূস সরকার এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের মূল কান্ডারি।” একই সঙ্গে বর্তমান সরকারও এই দায় এড়াতে পারে না বলে জানান তিনি।
মিছিল
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে কলাভবন, ডাকসু ও লাইব্রেরি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে সমাপ্ত হয়।



