ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে বহিষ্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, আজকের অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় যেন এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়, সে জন্য সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাফিউল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল একটি স্মারকলিপি আমরা উপাচার্যকে দিয়েছিলাম। সেখানেই আমরা জানতে পারি প্রশাসন একটি তথ্য অনুসন্ধান (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) কমিটি করে দেয়। কমিটির ৫ মের মধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল। উপাচার্য স্যার বলেছিলেন সুদীপ চক্রবর্তীর স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যাপারটি ৭ মের সিন্ডিকেট সভায় আসবে। তো সেটা যেন এই সিন্ডিকেট সভায় ওঠে, সে জন্যই আমরা এখানে সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করছি।’
ডাকসু নেতার সংহতি
অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। তদন্ত কমিটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং এর পেছনে যারা আছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ অভিযুক্ত শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নষ্ট করেছেন বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।
সাত দফা দাবি
অবস্থান কর্মসূচিতে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সালিম শাদমান তাঁদের সাত দফা দাবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২৬ এপ্রিল নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার হন। এরপর তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে এখন তিনি কারাগারে।



