জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে ‘পুকি’ হিসেবে দেখতে চান না। বরং তাকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও প্রাণবন্ত হিসেবে দেখতে চান। রোববার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা একটা রাজনৈতিক সরকারের সময় দেখি যে প্রধানমন্ত্রী কেন রাজনৈতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে চান। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পুকি’ হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা তাকে ‘পুকি’ হিসেবে দেখতে চাই না। বর্তমান প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। তাই আমরা তাকে একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আশা করি, তিনি আমাদের রাজনৈতিক দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।’
গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা সংকট
এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের দল বদলের কারণে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। ফলে তারা নতুন গণমাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে। অভ্যুত্থানের সময় মূলধারা থেকে তাদের কণ্ঠ প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হলে নতুন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যখন সংবাদমাধ্যম দখল হওয়া শুরু করে, সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো কেবল হাত বদল হয়েছে। গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করতে গেলে যে কোনো সরকার চিন্তায় পড়ে যায়। এর পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। সাংবাদিকরা ও মালিকরা ক্ষেপে যেতে পারেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারেন। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও হয়েছে।’
আইনি কাঠামোর অভাব ও মানবাধিকার
আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘সাংবাদিকদের অনেকেই গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন, আওয়ামী লীগের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে আছেন। যথাযথ আইনি কাঠামো না থাকায় যারা ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে সহায়তা করেছেন, তাদের এখন হিরো ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের আরও ভয়াবহ শাস্তি হওয়া দরকার ছিল।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, মানবাধিকার সার্বজনীন হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের যথেষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় আমরা তা অনুশীলন করতে পারছি না।



