ফলতায় ভোট বাতিলের প্রতিবাদে নারীদের আন্দোলন
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা আগামীকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে শুরু হবে। তবে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গত শনিবার রাতে ওই আসনের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল প্রকাশ করা হবে।
পুনর্নির্বাচনের তারিখ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফলতা আসনে পুনর্ভোট গ্রহণ করা হবে ২১ মে এবং ভোট গণনা হবে ২৪ মে।
অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই আসনে ইভিএমে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রতীকের ওপর টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়, অনেক ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং শাসক দলের কর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ভোটাররা। বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট
এ আসনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত তাঁর প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করেন। তিনি জানান, নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোট পড়েছে ৫৮ শতাংশ, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তৃণমূল প্রার্থী ও বিতর্ক
ফলতা আসনের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। নির্বাচনের আগে এই আসনের দায়িত্বে থাকা উত্তর প্রদেশের আইপিএস কর্মকর্তা অজয়পাল শর্মাকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। ‘সিংহম’ নামে পরিচিত এই কর্মকর্তা এলাকায় আসার পর তাঁকে হুমকি দিয়ে জাহাঙ্গীর খান বলেছিলেন, ‘আপনি সিংহম হলে আমি পুষ্পা, এই এলাকা আমার।’ পরে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা আসনের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দম থাকলে ফলতায় গোটা ভারতকে নিয়ে আসুন। ডায়মন্ড হারবারকে কালিমালিপ্ত করতে ১০ জন্মও যথেষ্ট নয়। আমি গোটা ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছি, ক্ষমতা থাকলে সর্বশক্তি দিয়ে ফলতায় চলে আসুন।’
গ্রেপ্তার ও তল্লাশি
পুলিশ ইতিমধ্যে এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর খানের দুই সহযোগী—ইসরাফুল ও সুজাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন জাহাঙ্গীর খান।
ফলতা আসনে দ্বিতীয় দফায় গত ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।



