অসুস্থ অবস্থায় কুরবানি ওয়াজিব থাকলে চিকিৎসা নাকি কুরবানি—এই দ্বিধায় অনেকেই পড়েন। সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রশ্নের বিবরণ
একজন ব্যক্তি জানতে চান, তার কাছে অল্প টাকা রয়েছে। একদিকে তার চিকিৎসা করা জরুরি, অন্যদিকে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। কিন্তু চিকিৎসা করলে কুরবানির টাকা আর থাকবে না। এখন তার করণীয় কী?
শায়খ আহমাদুল্লাহর উত্তর
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া। অসুস্থ হলে আগে চিকিৎসা নেওয়াই উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমানে যদি চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই আগে করা উচিত। এরপর কুরবানির সময় যদি কারও কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, যার কারণে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে সে কুরবানি আদায় করতে পারবে।
তবে যদি চিকিৎসা খরচের কারণে কুরবানির সময় প্রয়োজনীয় সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, কুরবানির জন্য টাকা ধরে রাখতে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা বাদ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সমীচীন নয়। বরং জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সারসংক্ষেপ
অসুস্থ অবস্থায় কুরবানি ওয়াজিব হলেও চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামসম্মত। চিকিৎসার পর যদি সম্পদ থাকে তাহলে কুরবানি আদায় করতে হবে, অন্যথায় কুরবানি ওয়াজিব থাকবে না।



