প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তাকে দীর্ঘ সময় বিদেশে প্রবাস জীবন কাটাতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। আমাকেও একসময় রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলো দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, আমার দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুন্দর পরিবেশে স্কুলে যাবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের অঙ্গীকার
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, আমি শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা চাই না, আমূল পরিবর্তন চাই। আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও সম্মানজনক পরিবেশে পড়াশোনা করুক।
৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে। শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
নারী শিক্ষায় বড় ঘোষণা
দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে বড় ঘোষণা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সঙ্গে ভালো ফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে পদক্ষেপ
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করেছি এবং একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান আসবে।
বন্যা ও গ্রামীণ অর্থনীতি
দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।



