প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকার সব ধর্মের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না।
ধর্মের নামে রাজনীতি নয়
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হলে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্মের নামে রাজনীতি করতে চায় না। আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে চাই না, অতীতেও তা করিনি।’
সবার জন্য সমান অধিকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি হলো এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা যেখানে প্রতিটি নাগরিক কোনো বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতি ও অধিকার স্বাধীনভাবে পালন, অনুশীলন ও উপভোগ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে দলীয় পরিচয়, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাস করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূলনীতি হলো ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু নিরাপত্তার অধিকার সবার জন্য প্রযোজ্য। ‘ধর্ম, জাতি বা বিশ্বাস নির্বিশেষে—বাঙালি বা অবাঙালি, বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী—সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, যা বর্তমান সরকারের নীতি।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা ধর্ম বা বিশ্বাস নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা দেশের স্বাধীনতার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ জিজ্ঞাসা করেনি কে কোন ধর্মের, বা কে বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার এবং আমাদের সবার।’
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
তিনি বলেন, সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন হলো ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা বারবার প্রমাণ করেছে যে এটি সব ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তারেক রহমান সবাইকে নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবতে না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের পরিচয় সবার জন্য সমান এবং প্রতিটি নাগরিকের সাধারণ পরিচয় হলো বাংলাদেশি হওয়া।
অনুষ্ঠানে তিনি বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব বৌদ্ধকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারক ফলক ও গৌতম বুদ্ধের মূর্তির প্রতিরূপ উপহার দেন।



