সংসদে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াত এমপির
সংসদে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াত এমপির

বাংলাদেশে মানুষের তৈরি আইনের 'কবর রচনা করে' কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাজশাহী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য এই দাবি তুলে ধরেন।

আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মুজিবুর রহমান বলেন, 'আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে, কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।' তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ ভবনে 'আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান' লেখা আছে; তাই আইনের উৎস হওয়া উচিত আল কোরআন।

কুরআনের বিধান চালুর দাবি

তার ভাষায়, 'কুরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।' মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের 'অধিকাংশ মানুষ' কুরআনে বিশ্বাস করে এবং কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করা 'তাদের দাবি'। সুরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকবে, তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত চালু করবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ বন্ধ করবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীত সরকারের সমালোচনা

কিন্তু আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার পরিচালনা করেও জাতীয় সংসদে 'কুরআনের একটি আইনও চালু না করায়' আক্ষেপ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি। প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হল না, কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা দারিদ্র বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হল না, কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হল না, কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা হল না, সে বিষয়ে জবাব দিতে হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব

দেশে ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে পরামর্শ দিতে একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে থাকা মাদ্রাসাপাস সদস্য, বিভিন্ন মাজহাবের আলেম এবং আহলে হাদিস আলেমদের নিয়ে এমন একটি বোর্ড করা যেতে পারে, যারা ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

সামাজিক অনাচারের সমালোচনা

বক্তব্যে 'সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, ব্যভিচার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির' সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বক্তব্য রাখেন।