সবুজের আড়ালে ফুডকোর্ট: পূর্বাচলে সাবেক প্রশাসকের কৌশল
সবুজের আড়ালে ফুডকোর্ট: পূর্বাচলে সাবেক প্রশাসকের কৌশল

পূর্বাচলের ১ নম্বর সেক্টরে নীলা মার্কেটের কাছে টঙ্গী খালের দুই পাশের জায়গায় সবুজ অঞ্চল তৈরির নামে কৌশলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ফুডকোর্ট বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ওই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল শুধু গাছ লাগানোর জন্য। কিন্তু সেখানে গাছ না লাগিয়ে ভিভিড কনস্ট্রাকশন নামের প্রতিষ্ঠানকে ১৫টি ফুডকোর্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফুডকোর্টের অনুমোদন ও বিতর্ক

ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৩ নভেম্বর ভিভিড কনস্ট্রাকশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক জেভিয়ার এস বিশ্বাসকে ফুডকোর্ট স্থাপনের অনুমতি দেয় সিটি করপোরেশন। শর্ত ছিল, প্রতিষ্ঠানটি টঙ্গী খালের দুই পাশের গ্রিন বেল্টে সবুজ অঞ্চল তৈরি করবে এবং এর বিনিময়ে ১৫টি ফুডকোর্ট বসাবে। দুই বছরের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়। তবে রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, গাছ লাগানোর জায়গায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার ডিএনসিসির নেই।

রাজউকের অবস্থান

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বলেন, “সিটি করপোরেশনকে কেবল গাছ লাগানো বা সবুজায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল সীমিত ও শর্তসাপেক্ষ অনুমতি। স্থায়ী বা বাণিজ্যিক কোনো কার্যক্রমের জন্য নয়।” তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবেক প্রশাসকের ব্যাখ্যা

সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রথম আলোকে বলেন, “রাজউক ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে সবুজায়নের অংশ হিসেবে ফুডকোর্ট বসানোর একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অনুমোদনটি দেওয়া হয়েছিল অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার চিন্তা থেকে।” তিনি দাবি করেন, অনুমোদন দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ এলে তা বাতিল করে দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান পরিস্থিতি

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বরাদ্দকৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎচালিত ১৪টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো ফুডকোর্ট বসেনি। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, সবুজায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলতে অস্থায়ীভাবে ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রির চিন্তা করা হয়েছিল। তবে আপত্তি ও বিতর্কের কারণে উদ্যোগটি বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভিভিড কনস্ট্রাকশনের প্রধান নির্বাহী জেভিয়ার এস বিশ্বাস দাবি করেন, তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি গাছ লাগিয়েছেন এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছেন, যাতে ১০-১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তিনি আর্থিক ক্ষতির কথা জানান।

দুর্নীতির অভিযোগ

ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। মূলত এরপরই তিনি তাঁর আমলে দেওয়া অবৈধ বরাদ্দ ও অনুমোদনগুলোর কিছু বাতিল এবং কিছু স্থগিত করেন। স্থগিত রাখাকে ‘অপেক্ষায়’ রাখার কৌশল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।