যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিনে মুক্তি, বিএনপির লোকদের জোরাজুরির অভিযোগ
শিল্পী বেগমের জামিনে মুক্তি, বিএনপির জোরাজুরির অভিযোগ

যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিনে মুক্তি, বিএনপির লোকদের জোরাজুরির অভিযোগ

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগম বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সামনে বিএনপির লোকদের বিরুদ্ধে জোরাজুরির তীব্র অভিযোগ তুলে ধরেন। তার সঙ্গে ছিল দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম, যার উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও মর্মস্পর্শী করে তুলেছে।

গ্রেফতারের ঘটনা ও বিএনপির ভূমিকা

শিল্পী বেগম দাবি করেন, গত সোমবার রাতে তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে জোর করে বিএনপির লোকেরা ধরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি বলেন, 'তেজগাঁও যুবদলের সেক্রেটারি সুমন এতে নেতৃত্ব দেয়। আমার ও সন্তানের অবস্থা দেখে পুলিশ গ্রেফতার করতে চায়নি, এমনকি থানায়ও নিতে চায়নি। তারপরও বিএনপির লোকদের জোরাজুরিতে একপর্যায়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।' এরপর তাকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়, যেখানে আদালত প্রাথমিকভাবে জামিন নামঞ্জুর করে।

আদালতের মানবিক সিদ্ধান্ত ও গণমাধ্যমের ভূমিকা

শিল্পী বেগমের মতে, তিনি সিজারের রোগী এবং অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও আদালত প্রথমে জামিন দেননি। তবে ফেসবুকে সমালোচনা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, 'আজকে মিডিয়ায় সংবাদ হওয়ায় আমি মুক্তি পেয়েছি। মুক্তি পাওয়ায় আমার সন্তানের জন্য ভালো হলো। তীব্র গরমে কারাগারে দেড় মাসের বাচ্চা নিয়ে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তির পরের অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মুক্তির পর শিল্পী বেগম তার সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, 'আমার দলে কোনও পদ-পদবি ছিল না। তবে আমি দলকে ভালোবাসি। একজন নগন্য কর্মী। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।' সকাল থেকেই তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা কারাগারের সামনে ভিড় করেছিলেন, যারা তাকে বরণ করে নেন। তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগের নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, 'শিল্পী আপা আমাদের এলাকার বড় বোন। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিন দিয়েছেন। আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।'

কারাগার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই শেষে দুপুর ১২টার দিকে শিল্পী বেগমকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই মামলাটি তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনের অধীনে দায়ের করা হয়েছিল, যা এখনও চলমান রয়েছে।

শিল্পী বেগমের মুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষত তার শিশুসন্তানসহ কারাবাসের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।