বিএনপির মনোনয়নে সুবর্ণা শিকদার: আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীর অতীত নিয়ে বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর। এই মনোনয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত তাঁর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে।
আওয়ামী লীগের পদধারী হিসেবে অতীত
সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতেও আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও বিতর্ক
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সুবর্ণা শিকদার সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছিলেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা আমাকে মনোনয়ন দেবেন, আমি যাতে মানবকল্যাণে কাজ করতে পারি।’ তবে এখন বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুবর্ণা শিকদারের ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘আমাকে একসময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তবে এতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়ে ওই তালিকায় নাম রাখা হয়। আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি এবং কোনো দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি কারণ বিষয়টি কখনো গ্রহণই করেননি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দল যাঁকে যোগ্য মনে করেছে, তাঁকেই মনোনয়ন দিয়েছে। ত্যাগী নেত্রীদের মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বেশি খুশি হতেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই—আমাদের সবাইকে তা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে।’ অন্যদিকে, বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর হঠাৎ এসে মনোনয়ন পাওয়া ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রতি অবিচার। এতে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি হতে পারে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শ্যামল কান্তি বাড়ৈ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যাক, বর্তমান সরকারে আমাদের একজন প্রতিনিধি হলো।’ অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু খান তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্রেকিং নিউজ...কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপি থেকে মহিলা সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন।’ এই আলোচনাগুলো সুবর্ণা শিকদারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।



