৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন অচল, বিএনপি সরকারের নতুন পরিকল্পনা
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় ৬৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করে ২০টি ডেমু ট্রেন আমদানি করেছিল। ২০১৩ সালে চালু হওয়া এসব ট্রেন মাত্র তিন থেকে সাত বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ে। যাত্রী পরিবহনে সামান্য আয় হলেও জ্বালানি তেল ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ ছিল অনেক বেশি। পরে নানা উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ডেমু ট্রেনগুলো সচল রাখা যায়নি।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগ
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেনা এসব ডেমু ট্রেন এখন বিএনপি সরকারের অধীনে সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। শুধু ডেমু সচল করা নয়, নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, রেললাইন নির্মাণ, কোচ ও ইঞ্জিন সংস্কার, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিএনপি সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৌশল
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১ এপ্রিল একটি সভা করেছে। সভায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। প্রথম ছয় মাস স্বল্প মেয়াদ, এক বছর মধ্য মেয়াদ এবং পাঁচ বছর দীর্ঘ মেয়াদ ধরা হয়েছে। কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতি ১৫ দিন পরপর রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতীতে সমন্বয় ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে জনগণের টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু রেলের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি।
ডেমু ট্রেনের বর্তমান অবস্থা
২০১৩ সালে চীন থেকে কেনা ২০টি ডেমু ট্রেনের প্রতিটি সেটে দুটি ইঞ্জিন ও একটি কোচ রয়েছে। চালুর তিন বছর পর থেকেই এগুলো অকেজো হতে শুরু করে। বর্তমানে সব কটি ডেমু ট্রেন অচল অবস্থায় রেলের বিভিন্ন স্টেশনে পড়ে আছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডেমু ট্রেন কেনায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যাত্রী পরিবহনে আয় হয়েছে মাত্র ২২ কোটি টাকা, অথচ মেরামত ও জ্বালানিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
পাইলট প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ডেমু ট্রেন চালু করার পাইলট পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো চালু করা হবে। এ ছাড়া প্রথম চার মাসে অকেজো ডেমু ট্রেনগুলো কমিউটার ট্রেনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করা হবে, যা যাত্রী পরিবহন ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করবে।
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প
২০২৬-২৭ অর্থবছরে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণ, সান্তাহার-লালমনিরহাট সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দূরত্ব ও ভ্রমণের সময় কমানোর জন্য টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেছেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সব জেলা ও প্রধান শহরগুলোকে সমন্বিত রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে পারে।



