জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের চাহিদা বিবেচনায়: বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী
পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাবেক নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার আবহ এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রেক্ষাপটে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, “বর্তমান সরকার চায়নি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করতে। এমনকি পরিস্থিতির চাপে বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি জনগণের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে যাতে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত থাকে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।
গুম অধ্যাদেশের ফাঁকফোকর সংশোধনের দাবি
দলীয় নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং অতীতে গুম হওয়া নেতাদের বিষয়ে রিজভী বলেন, “গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়, তবে কেন তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে না?” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অপরাধীদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নিখোঁজ নেতাদের হদিস পাওয়া সম্ভব।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘গুম অধ্যাদেশ’ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “এই অধ্যাদেশের মধ্যে অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। আমরা চাই এগুলো সংশোধন করে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর আইন করা হোক।” তিনি দাবি করেন, সরকার এমন আইন করবে যা হবে মানবতার পক্ষে, যেন ভবিষ্যতে গুমের মতো নিষ্ঠুর পন্থা আর কেউ অবলম্বন করার সাহস না পায়।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য দিক
এই আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং ইলিয়াস আলীর দ্রুত সন্ধানের দাবি জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা গুম হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
রিজভী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে এই সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, এবং আমরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছি।”



