ঈদ উদযাপনে সরকারের গণমুখী পদক্ষেপ জবাবদিহিতার প্রতিফলন: মাহদী আমিন
ঈদে সরকারের গণমুখী উদ্যোগ জবাবদিহিতার প্রতিফলন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের গৃহীত গণমুখী উদ্যোগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতিবাচক পরিবর্তন

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এবারের ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন এবং মানুষের পাশে থেকে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

১০টি গণমুখী পদক্ষেপ

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সরকারের ১০টি গণমুখী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ। মাহদী আমিন বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়। ফলে লাখো শ্রমিক আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃতীয় পদক্ষেপ হলো দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পশুর হাটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল। এতে দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি এবং প্রথমবারের মতো কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত হয়।

চতুর্থ পদক্ষেপ হলো দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা। মাহদী আমিন বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় ঈদের দিন দুপুর থেকেই বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। কোরবানির পর ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়।

পঞ্চম পদক্ষেপ হলো গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা। তিনি বলেন, ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি ছিল। রেলে ও মেট্রোরেলে নারীদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত কোচ চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়ায় ছাড় দেওয়া হয়। লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫-৮ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ হলো চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান। মাহদী আমিন বলেন, পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। পশুর হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদা আদায় বন্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।

সপ্তম পদক্ষেপ হলো লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকায় এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। তীব্র গরমের মধ্যেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন রাখার চেষ্টা করা হয়।

অষ্টম পদক্ষেপ হলো সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা। মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরবানি সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়ের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়। 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামক আলোচিত মহিষটি সংরক্ষণ করে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়, যা সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হয়।

নবম পদক্ষেপ হলো চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রীত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেক কমেছে।

দশম পদক্ষেপ হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা। মাহদী আমিন বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ কোরবানি সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকলেও সরকারি নজরদারির কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় শোক

মাহদী আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। ভবিষ্যতে জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের অঙ্গীকার

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় মাত্র তিন মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবু জনগণ এবারের ঈদে উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।