রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মণ্ডলের একটি আত্মসমালোচনামূলক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এলাকায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। রোববার (২৪ মে) নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টটি দেওয়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলায় শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন।
পোস্টের মূল বক্তব্য
আবু সাঈদ তার পোস্টে লেখেন, 'মাদকের টাকা আমরা খাব, পল্লির টাকা আমরা খাব, পরিবহণ সেক্টরের টাকা আমরা খাব, জুয়ার টাকাও আমরা খাব—আর সব দোষ চাপাবো গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঘাড়ে! আরে ভাই, তাদের কি এত দায় পড়ে গেছে? আমরা নিজেরা সর্বত্র অবৈধভাবে টাকা নেব, আর আশা করব—উপজেলার সব সমস্যার সমাধান তারা করে দেবে?' তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, 'আজ যে ভয়াল থাবা আমরা নিজেরাই তৈরি করছি, কাল কিন্তু এর থেকে তাদেরও রক্ষা করতে পারবেন না। তাই প্রশ্ন রইল— আমরা কি ঠিক করছি, না ভুল করছি?'
মন্তব্যে ব্যাপক সাড়া
পোস্টটির কমেন্ট বক্সে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নাজিমুল ইসলাম নামের এক যুবক লেখেন, 'আওয়ামী লীগ ভেবেছিল তারা কখনো ক্ষমতা হারাবে না, সবই ছিল তাদের। কিন্তু অতিরিক্ত করার ফলে বড় ধস নেমেছে। আর তোমরা ভাবতেছো সব এখন ফাঁকা, যা মন চায় তাই করতে পারতেছো।' উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সানোয়ার আহমেদ লেখেন, 'খাও দাও ফূর্তি কর দুনিয়াটা মোস্ত বড়। এখন রাগের কথা বলি আমি তো পাঁচ তারিখের পর থেকেই রাগ করছি।' ফারুক হোসেন নামে আরেকজন লেখেন, 'আপনার লেখার সঙ্গে একমত। উচিত কথা বলেছেন। মানুষ কত খারাপ হলে পতিতার টাকা মাদকের টাকা দিয়ে বৌ বাচ্চার জন্য ভালো ভালো খাবার কিনে খায়।' মোয়াজ্জেম হোসেন লেখেন, 'আগামী প্রজন্ম ধ্বংসের মূল কারণ হবে আমাদের নীরবতা, দায়ী আমরা।' মো. রুহুল শেখ লেখেন, 'ভাই রাগ করিনি, আমরা মাদক থেকে টাকা নিই, জুয়া থেকে টাকা নিই, মদের আসর থেকে টাকা নিই, পরিবহণ থেকে টাকা নিই। সব অবৈধ জায়গা থেকে টাকা নিই। তাহলে রাগ করব কিসের জন্য?' ফেরদৌস দেওয়ান নামের একজন তাকে ধন্যবাদ জানান।
আবু সাঈদের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ মণ্ডল যুগান্তরকে জানান, 'আমাদের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না। আমাদের দলের অনেক নেতারই প্রকাশ্যে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। অনেকে এসব অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন। তাই ক্ষোভ ও হতাশা থেকে পোস্টটি শেয়ার করেছি।'



