পদ্মার চরে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, গুলি করে অপহরণ, ১৭৬ গরু লুট
পদ্মার চরে সন্ত্রাসী তাণ্ডব, গুলি করে অপহরণ, গরু লুট

রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মার চর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই সীমান্তে প্রায়ই গুলির শব্দ শোনা যায়। সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালি চরে সোমবার গভীর রাতে গোলাগুলির ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ ও অপহরণ

গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে একজন হলেন স্বপন বেপারী (৪০) এবং অন্যজন জিয়াউল। পুলিশ জানিয়েছে, স্বপন বেপারীকে গুলি করে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। চারদিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

চরের নিয়ন্ত্রণে ১১টি বাহিনী

পদ্মার বিশাল চরটি চার জেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। এই চরের নিয়ন্ত্রণে কাঁকন বাহিনীসহ ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। গত বছর ২৭ অক্টোবর এই চরে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হন। এরপর ৭ নভেম্বর রাতে পুলিশ, র‌্যাব, নৌবাহিনী, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১ হাজার ২০০ সদস্য ‘ফার্স্ট লাইট’ অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করে। তবে এরপরও সন্ত্রাসীদের দাপট কমেনি; বরং বেড়েছে, বিশেষ করে কাঁকন বাহিনীর তাণ্ডব।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরু লুটের ঘটনা

গত ১১ মে বাঘার পদ্মার মধ্য চকরাজাপুর চরে আলতাফ খামরু, কামাল হোসেন খামরু, জামাল উদ্দিন, আসাদুল হক, বাবলু হোসেন ও আনারুল ইসলাম ১৭৬টি গরু নিয়ে পলাশি-ফতেপুর মাঠে চরাতে যান। এ সময় কাঁকন বাহিনীর ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাখালরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা তাদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিলে প্রাণভয়ে তারা গরু রেখে চলে যান। পরে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে লুট হওয়া গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সর্বশেষ অপহরণ

সোমবার রাত ১২টার দিকে পদ্মা নদী হয়ে ট্রলারযোগে কালিদাসখালি চরের দিকে আসছিল একদল ডাকাত। স্বপন বেপারী তাদের লক্ষ্য করে টর্চলাইট মারলে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গুলি করে। গুলিতে স্বপন ও জিয়াউল আহত হন। পরে স্বপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বুধবার সকালেও চরে অভিযান চালিয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে বালুরঘাট রয়েছে। এই ঘাটকে কেন্দ্র করে চরের দখল নিয়ে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও জানান, চরের পূর্বপাশে নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার চর রয়েছে। এসব চর নিয়ন্ত্রণ করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রোকনুজ্জামান কাঁকন ওরফে ইঞ্জিনিয়ার কাঁকনের বাহিনী। এছাড়া মণ্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ ও নাহারুল বাহিনীসহ ১১টি বাহিনী সক্রিয়। এই বাহিনীগুলো বালুঘাট, চরের বালু, খড়, ফসল, গরু, জমি দখল, চাঁদাবাজি, খেয়াঘাট সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

কাঁকন বাহিনীর তৎপরতা

সূত্র জানায়, কাঁকন বাহিনীর অন্তত ৬০০ সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তারা পুরো চর নিয়ন্ত্রণ করে। চাঁদাবাজি, লুট, খুনসহ সব অপকর্মের মূল হোতা এই বাহিনী।

পুলিশের বক্তব্য

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, সোমবারের ঘটনায় রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু স্বপনের খোঁজ মেলেনি। তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে কী কারণে গুলি করা হয়েছে তা জানা যায়নি। এই চর চার জেলায় পড়েছে এবং এটি দুর্গম এলাকা। ফলে অপরাধীরা সহজে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা একের পর এক অপকর্ম করে দুর্গম এলাকায় চলে যায়, তাই তাদের চিহ্নিত করা কঠিন।