চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তার কথিত পরকীয়া সঙ্গীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকালে উপজেলার ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম আক্তার (৩২) কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মুটুকি গ্রামের মো. দ্বীনেস মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন একই গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক পটভূমি
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পরকীয়ার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে আলমগীর হোসেন একই বাড়ির চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় আলমগীর প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকালে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীর মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আটক ও পলাতক
ঘটনার পর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। তাকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা শাহীন আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
নিহতের ননদ সায়েরা এবং মা হোসনে আরা বেগম জানান, পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে এর আগেও আলমগীর একাধিকবার মরিয়মকে মারধর করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। তাদের দাবি, মরিয়মের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।



