আইফোন চুরির অপবাদে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
আইফোন চুরির অপবাদে শিক্ষার্থী হত্যা, লাশ ঝুলিয়ে রাখে সিনিয়ররা

আইফোন চুরির অপবাদে শিক্ষার্থী হত্যা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (১৪)। সে ওই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী পালিয়ে যায়।

ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রোববার কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। ৪১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসান ফোনটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোন হারানো ওই ছাত্রসহ ৯ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে ৪১৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে নির্মমভাবে মারধর করে তারা, যার ফলে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষক ইসমাইল আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিযুক্ত ছাত্ররা মেহেদীর গলায় মাফলার প্যাঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। ওই সময় হোস্টেলের বেশির ভাগ ছাত্র মাঠে খেলাধুলা করছিল অথবা নামাজে ছিল।

উদ্ধার ও মৃত্যু নিশ্চিতকরণ

শিক্ষক ইসমাইল বলেন, আমরা মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকায় উত্তেজনা ও প্রতিবাদ

মেহেদীর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ৯টার দিকে কয়েকশ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের বাইরে জড়ো হন। রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাত ২টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ময়নাতদন্ত ও দাফন

বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহত ছাত্রের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ যথাযথ তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে মেহেদীর লাশ তার নিজ গ্রামে নিয়ে বাদ আসর জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

পরিবারের বক্তব্য

মেহেদীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। মেহেদীর মা অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ফোন করে জানায়, তার ছেলে অসুস্থ। খবর পেয়ে তারা দ্রুত স্কুলে যান, কিন্তু গিয়ে শুনেন, ছেলে আর বেঁচে নেই।

পুলিশের বক্তব্য

রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়। তবে শুধু মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।