পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার এবং দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বিদ্যমান বাজেট দিয়েই কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো বন্ধে সতর্কতা
বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল সরকারে আছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতের মতো কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যাতে হাসপাতালে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। এই পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য খাতে কীভাবে সর্বোচ্চ অবদান রাখা যায়, সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
পরিচ্ছন্নতা ও জনবল ঘাটতি নিরসনে গুরুত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য জনবলের ঘাটতিসহ সব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, দিন শেষে লক্ষ্য একটাই—রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে কোনো রোগীকে ঢাকায় পাঠাতে হলে সেটি ফরিদপুর মেডিকেলের সীমাবদ্ধতার পরিচয় বহন করে। তবে কোনো বিশেষায়িত সেবা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোই স্বাভাবিক। কিন্তু হার্টের রোগী, সাধারণ রোগী বা নারী স্বাস্থ্যসেবার রোগী—যে সমস্যা নিয়েই আসুক না কেন, আমরা যদি তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে না পারি, তাহলে সভাপতি হিসেবে আমার থাকার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ব্যবস্থাপনা কমিটিরও কোনো প্রয়োজন নেই।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও শুভেচ্ছা
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবা, হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবির, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শামা ওবায়েদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।



