রাজশাহীর কর্ণহার থানার বিল ধরমপুর গ্রামের শিশু আদিব আহনাফ (১১) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে। সোমবার (২২ জুন) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানিয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে আদিবকে হত্যা করে সে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত ১ মার্চ রাতে আদিব আহনাফ তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে বিল ধরমপুর কৈচাপুকুর এলাকায় তার বাবার ঘাসক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া গলায় একটি বেল্ট পেঁচানো ছিল। এ নিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছিল।
তদন্তের অগ্রগতি
আরএমপির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি শুরু থেকেই ছায়াতদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিশোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এ নিয়ে গত রোববার ঘটনায় জড়িত ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
স্বীকারোক্তি ও হত্যার কারণ
স্বীকারোক্তিতে কিশোর জানায়, এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি আদিব জানতে পেরে মেয়েটির মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়েটির মা বিষয়টি ওই কিশোরের মাকে অবহিত করে। তখন ওই কিশোর মায়ের কাছে মারধরের শিকার হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে আদিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
হত্যার পদ্ধতি
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে কিশোরটি তাকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সে। হত্যাকাণ্ডের সবকিছু নিশ্চিত হয়েই ওই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



