লালমনিরহাটে পুলিশের বহরে হামলা, আহত ১৮
লালমনিরহাটে পুলিশ বহরে হামলা, আহত ১৮

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার ও সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ সকালে আদিতমারী উপজেলায় পুলিশ একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা দেয়া সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। নিহত শিশুটির নাম নন্দিনী রানী। সে স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা নলিনী বর্মণ ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফুলিমারী গ্রামের কৃষক। সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। মঙ্গলবার ভোরে একই গ্রামের ভুট্টাক্ষেতে তার মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশের তৎপরতা

প্রাথমিক তদন্তে আদিতমারী পুলিশ শিশুটির পারিবারিক পরিচিত 'মামা' বলে পরিচিত ১৯ বছর বয়সী বিধানকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ বিধানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বহরটি আটকায় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। জনতা আসামির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি

আসামিকে নিয়ে রওনা দিলে জনতা আবারও সরকারি বহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িসহ ছয়টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, 'শিশুটির মরদেহ ভুট্টাক্ষেতে পাওয়ার পর পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনতা বাধা দেয়। পরে আমরা বিজিবি ও বিপুল পুলিশ নিয়ে সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে বের করে আনার সময় হঠাৎ ইট নিক্ষেপ শুরু হয়। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।'

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। তিনি জানান, আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামকে ঘটনার পরপরই প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।'