লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়েকে হত্যা: জানাজায় শেষ বিদায় নিল কিশোর
লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়েকে হত্যা: জানাজায় শেষ বিদায় নিল কিশোর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নিয়ে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী কিশোর জুনায়েদ ইসলাম শেষ বিদায় জানিয়েছেন তাঁর মা ও তিন বোনকে।

জানাজায় শোকের মাতম

বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকায় নৃশংস হামলায় নিহত হন শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (১০)। চারজনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে রায়পুরে আনা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ধানহাটা এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।

একমাত্র জীবিত সদস্যের বিদায়

জানাজার কাতারে ছিলেন পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য কিশোর জুনায়েদ ইসলাম। এক দিন আগেও যে মা ও তিন বোনের ভালোবাসা ছিল তাঁকে ঘিরে, এবার তাঁদেরই জানাজায় অংশ নিয়ে শেষ বিদায় জানাল সে। জানাজা শেষে স্বজনদের সঙ্গে মা ও তিন বোনের লাশ মাইক্রোবাসে করে কুমিল্লার পথে রওনা হয় কিশোর জুনায়েদ। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ময়নাতদন্তের ফলাফল

লাশ চারটির ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অরুপ রায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নিহত মা ও তিন মেয়ের মাথা, বুকে ও হাতে অনেক জখম ছিল।' ময়নাতদন্তের পর পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়ের

এ ঘটনায় রায়পুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার এ মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ছাড়া বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা।

পরিবারের করুণ ইতিহাস

স্থানীয় লোকজন জানান, জীবিকার সন্ধানে কুমিল্লা থেকে রায়পুরে এসেছিলেন পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। সেই থেকে শাহীনুর বেগমই চার সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষ হয়ে যায় সেই সংগ্রামের গল্প। এখন কিশোর জুনায়েদ ইসলামের কাঁধে রয়ে গেল শুধু মা ও তিন বোনকে হারানোর অসহনীয় স্মৃতি।

পুলিশের তদন্ত

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা-সহ আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি একজনই সংঘটিত করেছেন বলে জানা গেছে। প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।'