পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় বুধবার বেলা দুইটার দিকে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি জমিসংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত ব্যক্তির নাম ময়নুল হক (৫৫)। তিনি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
বারান্দায় রাখা বসার বেঞ্চে হাফ শার্ট ও লুঙ্গি পরা অবস্থায় শুয়ে ছিলেন ময়নুল হক। বেঞ্চের নিচে রাখা ছিল তাঁর স্যান্ডেল। বেশ কিছুক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় কয়েকজনের। পরে বিষয়টি আদালত পুলিশকে জানালে পুলিশসহ লোকজন কাছে গিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। প্রথম দিকে তাঁর পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরে আইনজীবীর সহকারী ও পরিচিত লোকজন পরিচয় নিশ্চিত করেন।
মরদেহ উদ্ধার
মারা গেছেন বুঝতে পারার পর প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা তাঁর মরদেহ বেঞ্চের ওপরেই রাখা ছিল। বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁর স্বজনদের উপস্থিতিতে আদালত পুলিশের সহায়তায় মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায় সদর থানার পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
মৃত ময়নুল হকের মামলার আইনজীবীর সহকারী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আজ বিচারপতি পরিদর্শনে আসার কারণে আদালত বসেনি। ময়নুল হক প্রথম দিকে এজলাসের ভেতরে পেছনের বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় তিনি একবার বমি করে বাইরে গিয়ে বারান্দায় বেঞ্চে বসেন। তাঁর শরীর খারাপ লাগছে কি না বা এমন কোনো সমস্যার কথাও কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। পরে লোকজনের কাছে শুনে এসে দেখি তিনি বেঞ্চে শুয়েই মারা গেছেন।’
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে আমি খাবার খাওয়ার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। এ সময় দেখি ওই ব্যক্তি বারান্দায় বেঞ্চে শুয়ে আছেন। আশপাশে আরও দুই-একজন তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন। সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে দেখি তিনি নিশ্বাস নিচ্ছেন না। পরে একজন দুজন করে লোকজন জড়ো হলেন। পরে দেখি তিনি আসলেই মারা গেছেন।’
স্বজনদের বক্তব্য
মৃত ময়নুল হকের প্রতিবেশী ফয়সাল কবির বলেন, ‘আমার চাচা একটি মামলার হাজিরা দিতে সকালে আদালতে এসেছিলেন। দুপুরে তাঁর আইনজীবী ও মুহুরির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে তিনি আদালতের বারান্দায় মারা গেছেন। আমার জানামতে তাঁর তেমন কোনো অসুস্থতা ছিল না। সকালে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি আদালতে এসেছিলেন।’
হাসপাতালের বক্তব্য
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন কুমার বণিক বলেন, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার বেশ কিছুক্ষণ আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা কঠিন। লাশ দেখে প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



