কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসের যুথিকা বিশ্বাস বদলি, ৯ বছর পর সরানো হলো
কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসের যুথিকা বিশ্বাস বদলি

দীর্ঘ ৯ বছর পর অবশেষে বদলি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) যুথিকা বিশ্বাসকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। গত ১৬ জুন দৈনিক যুগান্তরে ‘কালীগঞ্জে ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মানব সম্পদ উন্নয়ন শাখায় বদলি করা হয়েছে।

বদলি নিশ্চিত করলেন প্রধান নাজির

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের প্রধান নাজির মাসুদুজ্জামান মাসুদ যুথিকার বদলি ও যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ অনুযায়ী যুথিকা বিশ্বাসকে কালীগঞ্জ থেকে সরিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

অদৃশ্য খুঁটির জোরে ৯ বছর একই কর্মস্থলে

সরকারি চাকরিতে প্রতি তিন বছর পর পর বদলির স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও এক ‘অদৃশ্য খুঁটির’ জোরে বিগত ৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে ছিলেন যুথিকা বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় একই চেয়ার আঁকড়ে থাকার সুবাদে তিনি অফিসটিতে গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব একচ্ছত্র সিন্ডিকেট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির মতো তার নানা অনিয়মের তথ্য দৈনিক যুগান্তরে বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। খবরটি প্রকাশের পর টনক নড়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এবং দ্রুত তাকে ওই কার্যালয় থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী বদলি ও পুনর্বহাল

জানা যায়, যুথিকা বিশ্বাস ২০১৫ সালে কালীগঞ্জে পোস্টিং পাওয়ার পর ২০১৭ সালে নিয়ম অনুযায়ী তাকে পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল; কিন্তু অদৃশ্য তদবিরের জোরে মাত্র ছয় মাস পরেই আবার কালীগঞ্জে ফিরে আসেন তিনি। এরপর পদোন্নতি পেয়ে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এখানেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) হিসেবে দায়িত্ব নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ: স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—দাপ্তরিক ফাইল নিজের কাছে রেখে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি তার নিজের গ্রাম মহাদেবপুরের তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন দফতরে মাস্টাররোলে চাকরি পাইয়ে দেন। কোনো প্রকার সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই অমিত বিশ্বাস নামের এক বহিরাগত যুবককে ইউএনও অফিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও কম্পিউটারের কাজ নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ করে দেন তিনি।

আর্থিক অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য

এই কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্যও মেলে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যকার ৫ বছরে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ এ সময়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার প্রকৃত বেতন ও ভাতা বাবদ প্রাপ্তি ছিল মাত্র ২৩ লাখ টাকা।