স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার ও আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কুইক রেসপন্স সাপোর্ট (কিউআরএস) টিম। রবিবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানায় সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আদিবাসী অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম।
গ্রেফতার ও জামিনের বিবরণ
বিবৃতিতে বলা হয়, রেজানুর ইসলামকে ১৯ জুন গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয় এবং ২২ জুন তিনি বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর মামলাটি দায়ের করা হয়। একই মামলায় পত্রিকাটির আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা
কিউআরএস জানায়, মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার, চাঁদাবাজি বা পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের প্রয়োগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনস্বার্থে সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার আহ্বান
সংস্থাটি আরও জানায়, এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের কারণে গ্রেফতার, আটক এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি অনিশ্চয়তার ঝুঁকি তৈরি করে, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সীমিত করতে পারে এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহিতার ভূমিকা বাধাগ্রস্ত করে। বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার পূর্ণভাবে সম্মান করা হয় এবং যথাযথ আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়। কিউআরএস আরও বলে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



